Joy Maa

Location: Kolkata Posted on: 7/1/2026 9:53:20 AM

image

কলকাতার বুকে এমন অনেক প্রাচীন তীর্থস্থান রয়েছে, যাদের ইতিহাস আজও লোকমুখে কিংবদন্তির মতো বেঁচে আছে। তেমনই এক আশ্চর্য নাম মা শ্যামসুন্দরী। একসময় উত্তর কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটের সরু গলির অন্তরালে ছিল তাঁর মন্দির। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না, সেই সাধারণ গলির মধ্যেই অধিষ্ঠান করছেন এক জাগ্রত দেবী, যাঁর প্রতি অগণিত ভক্তের অগাধ আস্থা।
মা শ্যামসুন্দরীর পূজা হয় এক কন্যাশিশুর রূপে। এখানকার আরাধনায় নেই বলিপ্রথা, নেই মাছ-মাংসের নিবেদন। সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক উপাচারেই দেবীর সেবা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, আন্তরিক প্রার্থনা নিয়ে কেউ যদি মায়ের শরণাপন্ন হন, তিনি কখনও তাঁকে নিরাশ করেন না।
এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বহুল প্রচলিত অলৌকিক কাহিনি। বহু বছর আগে এক অমাবস্যার দিনে মন্দিরের পুরোহিত পূজার সামগ্রী কিনতে বেরিয়েছিলেন। পথে একটি ছোট্ট মেয়ে তাঁর কাছে খাবার চায়। ক্ষুধার্ত সেই শিশুটি জানায়, দীর্ঘ সময় ধরে সে কিছু খায়নি। কিন্তু ব্যস্ত পুরোহিত তাকে ফিরিয়ে দেন।
সেদিন‌ই রাতের পূজার সময় ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। প্রদীপের আলোয় পুরোহিত দেখলেন, মহাদেবের উপর দেবী যেন আর অধিষ্ঠিত নন। বিস্মিত অবস্থায় ঠিক তখনই ভেসে আসে নূপুরের মধুর ধ্বনি। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, সেই মুহূর্তেই দেবী নিজেই জানান দেন, দিনের বেলায় ক্ষুধার্ত বালিকার বেশে তিনিই এসেছিলেন অন্ন প্রার্থনা করতে। সেই ঘটনার পর থেকেই চালকলা নিবেদন এই মন্দিরের অন্যতম প্রধান রীতি হয়ে ওঠে, যা আজও ভক্তিভরে পালন করা হয়।
বর্তমানে মা শ্যামসুন্দরীর প্রাচীন সুকিয়া স্ট্রিটের মন্দির আর নেই। এখন তিনি নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন কলকাতার মুকুন্দপুর এলাকায়, ই এম বাইপাস সংলগ্ন স্থানে। ভক্তদের উদ্যোগে নির্মিত নতুন মন্দিরে আজও তিনি রাজরাজেশ্বরীর মহিমায় বিরাজমান। প্রতিদিন বহু মানুষ সেখানে এসে মায়ের দর্শন করেন, প্রার্থনা জানান এবং আশীর্বাদ লাভের আশা নিয়ে ফিরে যান।
যুগ বদলেছে, ঠিকানা বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি ভক্তদের বিশ্বাস। মা শ্যামসুন্দরীর প্রতি সেই অটল আস্থা আজও সমানভাবে প্রবাহিত, যেখানে ভক্তির আহ্বান, সেখানেই মায়ের করুণা।
জয় মা শ্যামসুন্দরী। 🙏🌺
#god

BACK LIKE COMMENT